Tuesday, March 31, 2015

বাংলাদেশের জনগণ

বাপ-দাদারা জন্মেই দেখেছে অস্তিত্ত ব্রিটিশদের দখলে, পাকিস্তানের দখলে!  আমি জন্মেই দেখেছি আমি অসৎ রাজনীতির এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের দাস মাত্র, জন্মেই দেখেছি ভিন দেশের চোখ রাঙ্গানি!  আমি স্বাধিন ছিলাম কবে?  সময় এসেছে আমাদের সবকিছু পুনর্বিবেচনা করার।  এভাবেই দিনের পর দিন চলে যাবে?  আমাদের দাসত্ব কি উত্তারাধিকারসুত্রে বর্তাবে আমাদের সন্তানদের উপর?
---------------
"জেনে গেছি -
বেড়ীবদ্ধ দু'পায়ে আমি আজন্ম পরাধীন!
পদপিষ্ট হতে হতে বুঝে গেছি -
কারো রাজপ্রাসাদের আমি খোদিত সোপান!
গলদেশে ধারাল ছুরির তীক্ষ্ণ আঘাতে
আপন রক্তের ফিনকি দেখে দেখে
বুঝে গেছি, কারো আমি বলির পাঁঠা!
হেসে হেসে বাজি রেখে আমার জীবন
নিঠুর জুয়াড়ি দিয়েছে বুঝিয়ে -
অশালীন রাজনীতির আমিই তো জ্বালানী!
আমাকে প্রজ্বলনের উৎসব
উপভোগ করে অনেকেই - আমি জানি!
বিদেশী বনিকের কাছে আমাকে ফেরি করে যারা
দেশজ চেতনায় সবচেয়ে বেশী উৎফুল্ল দেখেছি তারা!
আমি কে?
আমি বাঙালি! আমি বাংলাদেশী! আমি পাহাড়ি!
যে নামেই ডাক না আমায় - আমি বাংলাদেশের জনগন!
আমি নিষ্ক্রিয় সয়ে যাই সমস্ত শোষণ!
বাকহীন,  দৃষ্টিহীন, চেতনাবিহিন!
আমি কি উঠবো না জেগে?
শুদ্ধ চেতনা আর কর্মের যৌথ উদ্যোগ
সাথে মিশে চঞ্চল এ চিত্তের অদম্য আবেগ
আমাকে জাগাবেই একদিন!
একাত্তুর কি ভুলেছে সবাই?
ভুলে গেছে নুর হোসেনের রক্তাক্ত নব্বই?
লোহিতে কেবল লাগল বলে ঝড়ো বাতাস!
শুধু সময়ের অপেক্ষায়!
সাবধান হয়ে যাক যতসব অসৎ বেনিয়া!
পটের যে ভাবী পরিবর্তন
নিশ্চিত আভাস পেয়েছি তার দখিণা বাতাসে!
শিকারি তুমি হয়ে যাবে শিকার এখন!
আমি বাংলাদেশের জনগন!
আমিই  বাংলাদেশের জনগন!"

Sunday, March 15, 2015

শুভ্রতা চাই!

সালাহউদ্দিন সাহেব যেন সুস্থ অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরে আসেন সেই দোয়া করি -  আরেকজন ইলিয়াস আলি যেন তিনি না হন!  খুব বিরক্ত হয়ে গেছি - আর গুম-খুন দেখতে চাই না, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে মুক্তি চাই, আন্দোলনের নামে পোড়ানো লাশের গন্ধে বাতাস ভারী যেন আর না হয়, অন্ধ বাঙ্গালী জাতিয়বাদের তোড়ে আমার আর কোন পাহাড়ি বোনের ধর্ষণ উপেক্ষিত হোক চাই না, নাস্তিকতা বা ধার্মিকতার নেশায় কেও কাওকে অন্যায়ভাবে কষ্ট দিক সেটাও চাই না।  সহমর্মিতা চাই, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ চাই, চাই নিয়মতান্ত্রিকতা আর ন্যায়বিচার।  আল্লাহ আমাদের শান্তি দিক, সহায় হোক!  
-
"শুভ্রতা নেই, স্বচ্ছতা নেই
চারদিকে শুধু চোখ জ্বালা করা
ধোঁয়াটে আধার!
সরলতা নেই, সহজতা নেই
চারপাশে শুধু
মন জ্বালা করা ধ্বংসাবশেষ,
সহজ স্মৃতির!
বদলে গিয়েছে সব -
চারিধার, আমার উঠোন!
অমাবস্যার রাত যেন নেমেছে চেতনায়!
টলটলে নীলাভ জলে
হয়ে যাব নিঃসঙ্গ ডিঙ্গি!
স্বজাতি থেকে সবথেকে দূরে
বহুদূরে কোন এক অচেনা সাগরে!
কিছু নেই, কিছু নেই, ভালো কিছু নেই!
সব ভাল যেন গিয়েছে মিলিয়ে
কোন এক অচিন গহ্বরে!
প্রতিকার চাই, সরলতা চাই!
প্রতিটি রাতের শেষে, বার বার
আমি চাই উদার সমুদ্রের ভোর!
ধবল দোলনচাঁপার যে পবিত্রতা
আজ তাকে খুব, খুব প্রয়োজন!"

Saturday, February 28, 2015

অভিশাপ দিতাম!

আমার নবী(সাঃ) যদি অভিশাপ দেয়াটা অপছন্দ না করতেন তাহলে আমি ভয়াবহ অভিশাপ দিতাম তাদের যারা তাদের ঘৃণা এবং সংকীর্ণতার তুষ্টি সাধন করার জন্য আমার কোন কোন নিরীহ, নামাজি ছাত্রকে অন্যায়ভাবে কোন গোষ্ঠীর ছিল ছাপ্পর মেরে বিপদে ফেলার চেষ্টা করে বা তাদের রাস্তাঘাটে বিরক্ত করে!  এমন অভিশাপ দিতাম যেন তাদের জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত দুর্বিষহ হয়!  আমার এই অভিশাপ আল্লাহ গ্রহন করতেন কিনা জানিনা, কিন্তু আমি অভিশাপ দিতাম!
আর কেও কেও খুব খুশি হবে আমি মরে গেলে বোঝা গেল - আমি কেন বাসের তলায় পরি নাই সেটা নিয়ে আক্ষেপ দেখা গেছে!  আমি কখনো মায়া ছাড়া কিছু দেইনি - প্রতিদান ভালই!  ঘৃণা কতদুর যেতে পারে!
আর কেও কেও আছে যারা নিজ গোত্রীয় কেও খুন হলে খুব কষ্ট পান, কিন্তু অন্য গোত্রের কেও খুন হলে তাদের কিছু যায় আসেনা - এরাই আবার মানবতার স্লোগান তুলেন!  
আর আমাদের মুসলমানদের মনে রাখতে হবে কে কোথায় কি বলছে ইসলাম নিয়ে সেটা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে আমি নিজে ইসলাম পালন করছি কিনা সেটার দিকে নজর রাখা।  বিচার-বহির্ভূত কোন হত্যাকাণ্ড সমর্থন করার প্রশ্নই আসে না!
আমার সংস্কৃতি নির্ধারিত হয় আমার বিশ্বাস দ্বারা ।  আর যেহেতু ইসলামে আমি বিশ্বাস করি, কাজেই সেটই আমার সংস্কৃতির বড় একটি অংশ।  কারো সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ভাষা, জাতীয়তা, জাতীয় সঙ্গীত, দেশ - এই সংবেদনশীল জিনিশগুলো নিয়ে নোংরা কথা কেও বললে সেটা তাদের গায়ে লাগতেই পারে, তারা ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারে।  একইভাবে ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করলে, নবি (সাঃ) কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করলে খুব্ধ হবার অধিকার আমাদের মুসলমানদের অবশ্যই আছে যদিও কেও কেও মনে করেন সে অধিকারও আমাদের নেই!  তবে আমাদের মুসলমানদের খেয়াল রাখতে হবে যে ক্ষোভ প্রকাশের ভাষাটা যেন সন্ত্রাস না হয় এবং শালীনতাবিবর্জিত না হয়!  এখানে আমাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখা একান্ত জরুরী।
আমাদের ক্ষমাশিলতা শিখতে হবে - এটাই কোরআন এবং সুন্নার শিক্ষা!  মক্কা বিজয়ের পর আমাদের নবি(সাঃ) তার সকল শত্রুদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন যদিও এই শত্রুরাই তাঁকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছিল, তাঁকে হত্যার বিভিন্ন প্রয়াশ চালিয়েছিল!  তিনি সেবা করেছেন এমন মানুষের যে তাঁর পথে নিয়ত কাঁটা বিছিয়ে রাখত। আমাদের এগুলো মনে রাখতে হবে।
কিছু কিছু মানুষ আমাদের ক্ষেপাবার প্রানান্ত চেষ্টা করে যাবে, তারা প্রতিনিয়ত নোংরাভাবে আমাদের ধর্মকে, আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) কে আঘাত করবে।  কিন্তু আমরা ধৈর্য ধরব, আমাদের রাগ সম্বরন করব এবং কখনো সন্ত্রাসকে বেছে নেবনা!   আমরা তাদের জন্য দোয়া করব যাতে আল্লাহ তাদের হেদায়েত দেন।
এসব লোকজন তাদের 'পরিশুদ্ধ বিবেক' আর 'উন্নততর বুদ্ধিবৃত্তির' নেশায় বুঁদ হয়ে সিংহভাগ সময় ব্যয় করবে আমাদের দোষ ধরতে, খোঁচাতে।  কিন্তু আমাদের এসবের দিকে নজর দেবার সময় নেই - আমরা আমাদের সিংহভাগ সময় ব্যয় করব জ্ঞান অর্জনে, সমাজের দুঃস্থ মানুষের সাহায্যে, আমাদের  পাড়া-প্রতিবেশিদের সহায়তা দিতে, অবিচার দূর করতে।
আমরা সর্বদা ক্ষমাশিলতাকে প্রাধান্য দেব কারন আল্লাহ সেটাকেই উত্তম বলেছেন।  আমরা সর্বদা শান্তিকেই প্রাধান্য দেব - কারন সেটাই কোরআন এবং সুন্নার শিক্ষা!   আর আল্লাহ আমাদের পরিষ্কার আদেশ দিয়েছেন যারা অমুসলিম তাদের তাচ্ছিল্ল্য না করতে।  কাজেই সে পথ মাড়ানোর দুঃসাহস আমাদের দেখানোর কোন প্রয়োজন নেই।  
আল্লাহ আমাদের সবার সহায় হন!

Tuesday, February 17, 2015

শৃঙ্খল

মাঝে মাঝে মনে হয় সমস্ত নিয়ম যদি ভেঙ্গে যেত, তবে বেশ হতো!  আজীবন বিভিন্ন নিয়মের বেড়াজালে আমদের থাকতে হয়, যা আমদের সময় সময় অস্থির করে তুলে!  মাঝে মাঝে এমন সব আবেগ আমাদের তাড়া করে ফেরে যার উৎস আমাদের অজানা! হঠাৎ হঠাৎ তাই মনে হয় সব ভেঙ্গে ফেলি, সব বেড়াজাল উপড়ে ফেলি - খুব ইচ্ছে হয় সমস্ত আবেগ কাঁচের মত স্বচ্ছ হয়ে যাক!  কিন্তু পরক্ষনেই মনে হয়, এতেই কি মুক্তি মিলবে? শান্ত হবে জটিল এই মন?
------------
"শুধু একদিন
ভেঙ্গে যদি যেত পৃথিবীর সমস্ত নিয়ম!
শুধু একটি মুহুরতের জন্য,
ঝুরঝুরে বালির মতো যদি
খসে যেত সমস্ত শৃঙ্খল!
শুধু একদিন,
শুধু এক মুহুরতের জন্য,
ছিড়ে যদি যেত আমার সমস্ত বাঁধন,
বানের জলে যদি যেত মুছে
সমস্ত পরিসীমা!
শুধু একদিন,
শুধু এক মুহুরতের জন্য,
টলটলে জলের মতো যদি স্বচ্ছ হয়ে যেত
আমার সমস্ত আবেগ!
মুক্ত কি হতাম আমি?
হে স্রষ্টা -
তোমার ভয়াবহ সৃষ্টি এই মানব মন,
গুঢ় আবেগের এই সন্মিলন
না বোঝার ক্লান্তিতে নুব্জ্য করেছে আমায়!
বোঝাও তুমি - কেন সন্ধ্যার আগমন
বিষণ্ণ করে তুলে আমাকে এমন!
সুচতুর শিকারির মতো কেন
তাড়া করে ফেরে সব ফেলে আসা ক্ষণ!
কারণবিহীন সব ভালো না লাগা
আর ভালো লাগেনা!" 

Sunday, February 1, 2015

তুই?

বিরোধী দলের সাম্প্রতিক জ্বালাও পোড়াও আর সরকারের পুলিশি নির্যাতন, অগনতান্ত্রিক আচরনে বিরক্ত হয়ে গেলাম!  এদের আমি মানি না, মানবো না!  আমার এই কবিতা তাদের প্রতি আমার এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ---
"তুই থামাবি আমার প্রাণের স্পন্দন?
জানিস না,
স্রষ্টার হাতে আমার এই যে জীবন?
গলা টিপে থামাবি তুই আমার কোলাহল?
তুই পোড়াবি আমার আদরের ত্বক?
তুই?
ভীতির বাঁধে থামাবি আমার
চেতনার স্রোত?
তোর পেট্রোল বোমার
আমি করি থোরাই কেয়ার!
জেনে রাখ!
জেনে রাখ!
তোর পেটোয়া বাহিনীর চোখে রেখে চোখ
আমি দৃঢ় পায়ে হেঁটে যাব গন্তব্যে আমার!
ভেবেছিস তোর ভয়ে
এক ঠায় বসে রব ইজি চেয়ারে!
কোনদিন না,  কক্ষনো না!
আমি কাজে যাব,
যাব কবিতা উৎসবে,
আমি যাব মসজিদে
আমার ভালবাসাদের নিয়ে
খুশিমতো ঘুরে ফিরে বেড়াবো আমি
আমার এ ভুমিতে!
নিকুচি করি তোর সন্ত্রাসের!
তোর নিয়ন্ত্রণে আমি দেব না জীবন!
জেনে রাখ!
জেনে রাখ!
আর তৈরি হয়ে থাক!
তোর দোরগোড়ায়,
মুষ্টিবদ্ধ হাতে একদিন আমাকেই পাবি!"

Tuesday, January 27, 2015

সিএসই/আইটি ( ইউআইটিএস ) বিভাগের প্রথম ফেয়ারওয়েল এর কবিতা

"চলে যাবে জানি,
টেনেছ অনেক ঘানি!
আমায় দিয়ে করিয়েছ অনেক দাঁত কিরমিরানি!
"কাওকে" সাথে নিয়ে, পড়া ফাঁকি দিয়ে
অনেক, অনেক ঘুরেছ তোমরা হাতিরঝিলে যেয়ে।
কিন্তু, আমার কাছে রেখেছ অনেক হোমওয়ার্ক বাকি!
যতবারই দেখেছি তোমাদের পরীক্ষার খাতা
নাপা এক্সট্রাও থামাতে পারেনি আমার মাথার ব্যাথা!
“যত্তসব ফাঁকিবাজের দল” -
বারে বারে চেঁচিয়ে উঠেছে আমার অন্তঃস্থল!
থাক - এখন যাবেই যখন চলে
কি আর হবে এসব কথা বলে!
তবুও এটুক শুনে রাখ -
যদি না কর উজ্জ্বল আমার এই মুখ
বুঝতে পারবে পাখির মত উড়তে পাড়ার সুখ!
ভার্সিটির ওই দশ তলার জানালা আছে খোলা
ভুলিয়ে ভালিয়ে কাছে নিয়ে দেব একটা ঠেলা!
থাক - অনেক হল প্যাঁচাল
আবার বলি সেসব কথা, যেসব কথা বলে
ক্লান্ত এখনো হইনি আমি মুখে ফ্যানা তুলে।
"শুধু আমার জন্যই আমি নই"- থাকে যেন মনে।
"সবাই আমার আপন জন" - এই ভাবনা যত্ন করে রেখ তোমাদের প্রাণে!"
---------আমার ছাত্র/ছাত্রীরা - তোমাদের জন্য এই কবিতা। আমি কেন তোমাদের এত ভালবাসি, তার কারণ খুঁজতে যেয়ে ব্যর্থ হয়েছি বার বার।  থাক, কিছু কিছু কারণ না জানাই ভালো!  তোমাদের দেখলে অনেক সময় রাগের ভান করলেও আমার ভেতর আসলে অনেক আনন্দ হয় - বাধ্য হয়ে হেসে ফেলি!  বার বার মনে হয় - "মুক্তি নাই রে পাগল!"
যাই হউক - তোমরা মনে রেখ, তোমরা শিক্ষিত হয়েছ।  কিন্তু শিক্ষিত হবার মানে শুধুমাত্র জ্ঞান, বিজ্ঞানে দক্ষতা অর্জন নয়, শিক্ষিত হবার সবচেয়ে বড় লক্ষণ হচ্ছে অন্যের জন্য ভাবতে শেখা।  অর্থ উপার্জন তো করতেই হবে, কিন্তু তা করতে গিয়ে অন্যদের ভুলে  গেলে হবেনা!  অনেকেরই তোমাদেরকে অনেক প্রয়োজন।  তোমরা সেটা হয়ত জাননা, আর যাদের প্রয়োজন তোমাদেরকে, তারাও জানেনা যে তোমাদেরকে তাদের প্রয়োজন!  যে ছেলেটি শীতের কনকনে রাতে খালি পায়ে ঘুরে বেড়ায়, যে মেয়েটি আশ্রয়হীন, যে মা খাবারের স্বল্পতার কারনে না খেয়ে থেকে সন্তানকে খাওয়ায়, যে বাবা পানি করে রক্তকে প্রতিদিন, যে মানুষ গুম হয়ে যাওয়া ভালবাসার মানুষের অপেক্ষায় জেগে থাকে প্রতি রাত, যে মানুষ নির্যাতিত কোন না কোন ভাবে - এই সব মানুষদেরই তোমাদেরকে  খুব প্রয়োজন। 
প্রতিদিন তোমার চেষ্টা করবে কোন না কোন অন্যায়, সে যত ছোট হউক না কেন, প্রতিহত করতে। চেষ্টা করবে কোন না কোন ভাবে পরিচিত/অপরিচিত কাওকে সাহায্য করতে। হিসাব করে দেখ - তোমরা কতজন আছ।  এভাবে কাজ করলে প্রতিদিন কতগুলো ভালো কাজ হবে!  এভাবেই তো বিপরীতমুখী স্রোত দাড় করাতে হবে। হতাশার কিছু নেই, দূরে থাকবে সেসব লোক থেকে, যারা ধরেই নিয়েছে কোন কিছু করে কোন লাভ নেই - এরা ইতিহাস জানেনা।
সে মহান স্রষ্টা, যার কোন শরিক নেই, নেই সমকক্ষ কেও, যাকে বিভিন্ন চমৎকার সব নামে ডাকে বিভিন্ন মানুষ, তিনি তোমাদের ভালো রাখুন, ইহকাল, পরকাল দুই পৃথিবীতে - এই কামনা করে শেষ করলাম!  আসসালামুয়ালাইকুম!   
 

Friday, December 26, 2014

আরও কিছু রোম্যান্টিকতা

অনেকেই আমার রোম্যান্টিক কবিতার উৎস বা কারন খোঁজার চেষ্টা করেন।  আমি অনেকদিন থেকেই লিখি।  কবিতা লেখা এবং আবৃত্তি করা আমার খুবই প্রিয় -  শুধু এতদিন প্রকাশ করিনি।  আমার মনে যখন যেটা আসে, লিখি।  এর পেছনে উৎস/কারন খোঁজা আর বেহুদা সময় নষ্ট করা একই কথা :)  আর আমার সাম্প্রতিক বেশভূষার পরিবর্তনেও অনেকে ভুরু কুঁচকে কারন বের করার চেষ্টা করছেন।  আমার মা, আমার বড় ভাই এবং আমার ভাবী - এই তিনজনের এর পেছনে অবদান আছে।  অনেক দিন থেকেই তাদের ভেতর চাপা একটা অভিমান আছে আমার প্রতি - আমি কেন এত উরাধুরা চলি।  সেটা দূর করার চেষ্টা চলছে।  ভার্সিটি সংক্রান্ত আরেকটা কারন আছে এর পেছনে যেটা আমার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কলিগ ছাড়া আর কেও জানেনা - জানার দরকারও নাই।  যাই হউক - আবারও দুইখান রোম্যান্টিক কবিতা - 

"আমি শ্রাবণের বিরামহীন  বৃষ্টির মত
নিরন্তর ভালবেসে যাব
দ্বিধাহীন, ক্লান্তিহীন, অভিযোগ অনুযোগহীন
বুকের ভেতর দৈনিক ডানা ঝাঁপটাবে
অস্থির প্রজাপতি
হঠাৎ হঠাৎ, কণ্ঠনালীর চারপাশে
চেপে বসবে যন্ত্রণার নীলাভ শেকল
আমি তবু বুকভরে নিঃশ্বাস নেব অস্তিত্ব তোমার
অসীম কালের অতি ক্ষুদ্র যে অংশ
আমি ধারণ করে আছি
সে জীবন ভালবেসে গলে ক্ষয়ে যাক!
আমি তবু ক্ষান্ত দেবনা!
দেখিনা - তোমার কত আছে প্রতিরোধ!"

-----------------------------------

"শুনেন ম্যাডাম -
এতটুকু আনুরাগও ছিলনা আমার
এ কথা ও কথার ছলে
বেঁধেছেন কঠিন জালে।
চারদিকে সুদৃঢ় দেয়াল তুলে
ভালই ছিলেম নিরালা।
গভীর চোখের বাণে
ধরালেন গভীর ফাটল
প্রতিরোধে আমার
এখন আমার নির্ঘুম রাত
আপনি কাটাবেন স্বপ্নিল -
এ কেমন কথা!
আমার অস্থির মুহূর্তগুলোয়
আপনি বুঁদ হবেন খিলখিল হাসিতে -
মেনে নিতে পারবোনা, কিছুতেই!"