Thursday, November 27, 2014

সামান্য রোমান্টিকতা

আমার ছাত্র সাযযাদুর রহমানের প্রেমে পড়ার বাতিক আছে - প্রেমে না পরলে তার ঘুম হয় না মনে হয়।  প্রায়শ এফবি তে মন বিষয়ক পোস্ট দেয় সে, হাহুতাশ করে, দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।  আরেকজন, আহমেদ যবায়ের - তার প্রেমে পড়ার বাতিক আছে কিনা জানিনা, তবে প্রেমের কবিতা লেখে অনেক।  তাদের দুজনের জন্য ( তাদেরকে উদ্দেশ্য করে নয় :) ) এবং ওয়াসি'র অনুরধ রক্ষার্থে দুটা রোম্যান্টিক কবিতা দিলাম -
-------------------------------------------
"হঠাৎ ঘাড় ঘুড়িয়ে দেখি
রেশমি চুলের উথাল পাথাল ঢেউ
ভীষণ, ভীষণ ইচ্ছে হল
হাত ভেজাতে, কাছে যেতে
ভীষণ, ভীষণ ইচ্ছে হল
গভীর চোখে দুচোখ রেখে
মনের গহন বুঝে নিতে
সাধ আর সাধ্যের মিলন
এ জীবনে হয় কদাচিৎ
সামান্য এইটুকু দূরত্ব পেরনোর সামর্থ্য আমার
জানি হবেনা কোনদিন"

-----------------------

"তুমি রোদেলা দুপুর হয়েও
কি করে যে বর্ষা নামাও বুকের ভেতর
খোদাই মালুম

বসন্তের মৃদুলা বাতাস হয়েও
কি করে যে তোল কাল বৈশাখীর ঝড়
এই অস্তিত্ব জুড়ে
আমি ভেবে পাই না

শুধু জানি, আমার মানবিক দুর্বলতার
তুমি এক নিরন্তর সাক্ষী হয়ে
আমাকে জ্বালাবে প্রতিদিন"
------------------------

Tuesday, November 25, 2014

আশা

মইন হসেইন প্রিন্স সহ আরও শত সহস্র তরুন, যারা অন্যের ভালর জন্য জীবনের অনেক খানি সময় ব্যয় করে, বিপদে মানুষের পাশে এসে দাড়ায় তাদের জন্য আমার এই ছোট্ট কবিতা।  তারা আছে বলেই রানা প্লাজা, তাজ্রিন গারমেন্ত, তোবার শ্রমিকদের বন্ধু আছে, আশ্রয় আছে - যে আশ্রয় সরকার বা আমার মত মানুষেরা দিতে ব্যর্থ হয়েছি।  তবে প্রিন্সদের মনে রাখতে হবে - যে বনে বাস করে হায়েনাদের সাথে যুদ্ধ তারা করবে, সে বনে তাদের সুরক্ষিত আশ্রয়ও দরকার হবে, দরকার হবে অস্ত্রের - শিক্ষা এমনই একটি অস্ত্র ------

"যুবক থমকে থেমে দাঁড়াল
কিছুটা দ্বিধান্নিত
অস্তিত্ত বিপন্ন করবে কিনা ভেবে বোধ হয়
কিছুটা হিসেব নিকেশ চলল খানিকক্ষণ
আমি স্থির হয়ে দেখছি
অন্যায় দেখে দেখে অভ্যস্ত এই চোখে
হঠাৎ চিৎকার - "থামান এইসব - এটা অন্যায়!"
তাকিয়ে দেখি যুবকের মুষ্টিবদ্ধ হাত
পরম মমতার জমিতে বর্ধিত সাহসে
রুখে দাঁড়ানো এই যুবককে দেখে
আমি বুঝে নিলাম - আশাহত হবার কিছু নেই
আজ হোক, কাল হোক, পরিবর্তন আসবেই জোলোচ্ছাসের  মত
সমস্ত দরোজা খুলে দিয়ে
নিশ্চিন্তে আজ রাতে ঘুমাব আমি
এক দশকের ক্লান্তি আমার, চোখের সীমানা ঘিরে! "

--তোমাদের রায়হান, তোমাদের ভালবেসে


Saturday, May 31, 2014

র‍্যাব, মানবতা এবং বাংলাদেশ - লিফট এ একদিন

হাসপাতালের লিফট এ উঠার নিয়ম হোলো যে ডাক্তার এবং নার্সরা আগে উঠবেন।  এটা স্বাভাবিক - কারণ তারা হাসপাতালটাকে চালাচ্ছেন।  আমাদের ভার্সিটি তে নিয়ম হল শিক্ষক এবং স্টাফ (যাদের সারাদিন উপর/নিচ করতে হয়) আগে উঠতে পারবেন।  আমি কিছু  বেক্তিগত কারনে এ সুবিধাটা নেই না।  একটা কারন হল - নিয়ম মানতে শেখান।  আমি যদি শিক্ষক হয়ে লাইনে দাড়াই, তবে আমার ছাত্র/ছাত্রিরা অনুপ্রানিত হবে নিয়ম মেনে চলতে।  তাই আমি আমার ছাত্রদের সাথে লাইনে দাঁড়িয়ে লিফট এ উঠি।

সেজন্যই যখন কোনও ছাত্র/ছাত্রি উপর থেকে লিফট দখল করে উঠে, আর আমার অন্য ছাত্র/ছাত্রিরা কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে লিফট এ উঠতে না পারে, তখন খুব মেজাজ চড়ে যায়।  এমন ঘটনা প্রায় সময় ঘটে - কিন্তু আমি ছাত্রদের ভুল টা ধরিয়ে দিলে তারা মেনে নিয়ে লিফট থেকে নেমে লাইনে দাড়ায়।  কিন্তু কিছু কিছু বেতিক্রম না থাকলে ত জীবন নীরস হয়ে যায় :)
এমনই এক বেতিক্রমি ছাত্রকে তার ভুল টা ধরিয়ে দিয়েছিলাম।  ভুল স্বীকার ত দূরে থাক, সে আমাকে ইংরেজিতে বিশাল এক লেকচার দিল।  তার কথার মুল অংশগুলো নিচে তুলে ধরলাম -
১।  "আমি এখানে টাকা দিয়ে পড়ি" - মানে হল তার কোনও নিয়ম মানার, বা কাওকে শ্রদ্ধা করার কোনও প্রয়োজন নেই।
২। "আমি একজন র‍্যাব অফিসার" - সে আমাকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিল।  বাংলাদেশের পরিস্থিতি সে আমাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
৩। "আমি মানবতা কেন দেখাব?"
আমার মন খুব খারাপ হয়েছিল সেদিন।  সে আসলেই বাংলাদেশের পরিস্থিতিটা আমাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।  র‍্যাব কি এখন গল্পের সেইসব দইত্য/দানব নয় যাদের ভয় দেখিয়ে বাবা/মা বাচ্চাদের ঘুম পাড়ান?  এমনই কি দেখা যাচ্ছে না সাম্প্রতিক গুম/খুন/ক্রস ফায়ার এসব দেখে?  আর মানবতা কি আসলেই আস্তে আস্তে মুছে যাচ্ছে না আমাদের মনন থেকে?  তিন বছরের বাচ্চার কিডনি দুটো কেটে নিয়ে আমরাই ত তার লাশ ফেলে রেখে যাই রাস্তায়।  আমরাই ত গুলি করে পুড়িয়ে মানুষ মারছি!
 
খুব অস্থির লাগছে।  ক্রমাগত বুঝতে পারছি, ভাল মানুষদের ঐক্য কি পরিমান প্রয়োজন এখানে!
 
কোথাও যদি গুতিকতক ভাল লোক ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোনও কাজ করা শুরু করে, তবে তাদেরকে ঠেকানোর কেও থাকবে না।  স্রষ্টার সাহায্য সেখানে থাকবেই।  আমাদের মুল সমস্যা হল - আমরা যারা সাধারন মানুষ, সহজ সরল এবং সৎ জীবন যাপন করে যেতে চাই, তাদের ভেতর কোনও ঐক্য নেই, আর যখনই কোনও ঐক্য তৈরি হয় তাও হয় ক্ষণস্থায়ী।  এখনি সময় স্থায়ী ঐক্যের!  কদিন পর, পচন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছুবে যা চিকিৎসা করে সারান যাবেনা।  আমাদেরই লাশ ভাসতে থাকবে শীতলক্ষ্যায়, আমাদের গলিত দেহ পরে থাকবে রাস্তার পাশে, জেলের জালে ধরা পড়বে আমদের বিচ্ছিন্ন মস্তক!  আমরা কবে জেগে উঠবো? 

বিঃদ্রঃ আমার ছাত্র/ছাত্রিরা - তোমাদের কাছে ভীষণ ভাবে কৃতজ্ঞ তোমাদের ভালবাসার জন্য এবং তোমাদের সংযমের জন্য।  এই ঘটনার পর প্রচণ্ড রেগে থাকা সত্ত্বেও নিজেদের সংজত করেছ তোমরা।  আল্লাহ তোমাদের ভাল রাখুক, ন্যায় প্রথিস্থার, উপকারী পরিবর্তনের সহায়ক/অগ্রদুত হিসেবে তোমাদের ঐক্যবদ্ধ করে দিক!

Monday, January 27, 2014

আমরা সাধারন মানুষেরা

অনেক কষ্টের এই লেখা।  কারো কারো কাছে মনে হবে ভণ্ডামি, কারো কাছে ভাব, কারো কাছে নিছক ছেলেমানুষি - কিছু আসে যায় না।  যে আমাকে যে খোলসে দেখতে চায়, সেই খোলস পরতে না পারার
কারনে অনেক ধরনের নাম কামিয়েছি - কারো কাছে আমি মুনাফিক, কারো কাছে রাজাকাড়, আরও কত কি।  আমার কিছু আসে যায় না - আমি আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে কিছু আশা করিনা।
যাই হউক - সরকারি এক অফিসে গিয়েছিলাম কিছু পাওনা পরিশোধ করতে।  যে কোনও সরকারি অফিস গেলে আমার অস্বাস্তি লাগে খুব - অনেক পিওন থেকে শুরু করে অনেক অফিসার কেমন হুম্রি খেয়ে পরে - মক্কেল পাওয়া গেছে টাকা খাওয়ার।  এই অফিস বেতিক্রম নয়। 
দুই চারজন ডিঙ্গিয়ে গেলাম যার কাছে টাকা দিতে হবে তার কাছে।  তিনি অনেক হিসাব কিতাব করে বললেন, "আপনার যে টাকা আসে তার থেকে আমি কমায় দিলাম ২০০০, আপনে অর্ধেক নিয়েন আর আমারে অর্ধেক দিয়েন।" মন খারাপ হয়ে গেল খুব - একবার ইচ্ছা হোল বলি, "টাকা কি আপনার বাবার যে আমাকে বাচায় দিবেন?" মুখে, খুব ভদ্রতার সাথে বললাম, "ভাই, রাগ করবেন না, আমি পুরা টাকাটাই দিতে চাই,  আর আপনাকে এমনিতেই শ দুয়েক টাকা দিয়ে দিবনে।"  তিনি সেটাতে রাজি নন।  বললেন, "ভাই আপনে ভয় পান কেন?  কোন ভেজাল হইব না।"  আমি আবারও বলার চেষ্টা করলাম যে আমি পুরাটাই দিতে চাই, তিনি আমার কথায় কান না দিয়ে রিসিট কেটে ফেললেন - বুঝলাম বেশি জোর করলে একটা বিপদে ফেলে দিবে, যে বিপদের সাথে সংগ্রাম করার শক্তিসামর্থ্য আমার নেই এখন।  মেনে নিয়ে চলে এলাম!
সারা রাস্তা আমি মাথা নিচু করে বাসায় এসেছি।  আমি যে কখনো ঘুষ দিয়ে কাজ করাতে বাধ্য হইনি আগে, তা নয়।  কিন্তু এ পরিস্থিতি ভিন্ন অনেক!  আমার মনে হোল আমি দেশটাকে ঠকালাম, তার পাওনা থেকে তাকে বঞ্চিত করলাম, আমি লুটেরা!  আমার বুক চিন চিন করছিল!  ঘেন্না লাগছিল - আমি ঠকিয়েছি। আল্লাহর কাছে মাফ চাইলাম, ঠিক করলাম যে টাকা বেঁচেছে তা আমি দরিদ্র কাওকে দিয়ে দেব। তবু কষ্টটা যায়নি।  বাসায় ভাই বোন কেও ছিলনা, বউ ও না - ইচ্ছা হচ্ছিল তাদের কাওকে ধরে হাওমাও করে কাঁদি!  ইচ্ছে ছিল কাজের জায়গায় কারো সাথে শেয়ার করব কষ্টের কথাটা - কিন্তু সে সুযোগও নিয়ে নেয়া হয়েছে আমার কাছ থেকে!
আমি এখন সবাইকে এই কষ্টের কথাটা বলছি - কারন আছে।  একটা দেশ, একটা জনগোষ্ঠী এভাবে চলতে পারেনা!
এ দেশ সত্যিকার অর্থেই লুটেরাদের হাতে! এ দেশে আমাদের সত্তিকার অর্থেই কোন স্বাধীনতা নেই!  এ দেশে কোন ন্যায় বিচার বলে কিছু নেই!  আমি মানুষকে সর্বত্র ঘুরে বেড়াতে দেখি - ভিত সন্ত্রস্ত তারা!
 এখানে কোন পুলিশ আমাকে ধরে চড় থাপর মারলে আমার কিছু করার থাকবে না অপমানিত হউয়া ছাড়া।  আমাকে কেও গুম করে ফেললে আমার পরিবার শুধু কাঁদতেই পারবে!  ফুটপাতে হোন্ডা উঠিয়ে দেয়া যুবককে আমরা কিছু বলতে পারিনা ভয়ে - পাছে সে কোন রাজনৈতিক দলের ক্যাডার হয়!  আমাদের বাসে কে কখন বোমা মেরে বসে কে জানে!  আমাদের এখানে ৯ বছরের একটি শিশু ভোর বেলা টিফিন হাতে কাজে যায়, স্কুলে নয় - যখন আমার সন্তানরা বিকেলে খেলাধুলা করে, তখন সে কারো গাড়ি ঠিক করে, বা কোন রেস্টুরেন্ট এ ধুয়ামুছার কাজ করে!  এখানে এক বৃদ্ধার জমি দখল করে ফেলে প্রভাবশালী কোন বেক্তি - কোন বিচার হয় না!  এখানে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে, বইঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ মেরে ফেলা হয় রাজনীতির নামে!  এখানে মসজিদ থেকে গুজব ছড়িয়ে দাঙ্গা বাধান হয়, এখানে মালোপাড়ার নিরস্ত্র মানুষের জীবন তছনছ করা হয় ধর্মের নামে!  এখানে জঙ্গি দমনের নামে নিরীহ দরিদ্র একজন ধর্ম শিক্ষকের আরবি শিখানর পাঠশালা বন্ধ করে দেয়া হয়!  এখানে জামাত কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযানে অত্যাচার করা হয় তাদের পরিবারের নারি/শিশুদের।  এখানে নদী দখল/বন দখল সবই চলে বিনা বাঁধায়!  পদ্মা সেতু হয়ে যায় নিছক স্বপ্ন!  এখানে অবরোধের নামে দেশকে পিছিয়ে দেয়া হয় এক
দশক!
আমাকে কি আরও ফিরিস্তি দিতে হবে???
সব বভক্তি ভুলে, আমাদের সাধারন মানুষদের এই ঐক্যমতে এখনি পৌঁছুতে হবে - একটা দেশ এভাবে চলতে পারে না, একটি জনগোষ্ঠীর জীবন এমন হতে পারে না!  আমি কোন লুটেরা রাজনিতিবিদকে বলছি না, আমি কোন অসৎ ব্যবসায়িকে বলছি না, বলছি না দলিয়/বেক্তিগত সঙ্কীর্ণতার ওর্ধে উঠতে অক্ষম বুদ্ধিজিবিদের, বলছি না সেসব পেশাজিবিদের যারা রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে অর্থ এবং যশ কামাচ্ছেন দেদারসে!  আমি বলছি খেটে খাওয়া সাধারন মানুষদের, আমার বাসের সহযাত্রীদের - মত, ধর্ম ভুলে গিয়ে আমাদের ঐক্যমতে পৌঁছুতেই হবে এবং কাজে হাত দিতে হবে এই সমাজ ঠিক করার।
আমি হতে পারি একজন ইসলামপন্থী, আপনি সমাজতন্ত্রি, আমি হতে পারি রক্ষণশীল, আপনি উদারপন্থি, আমি হতে পারি মুসলমান, আপনি হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা নাস্তিক - এসব ভুলে যেয়ে দেশ ঠিক করার, আমাদের জীবন ফিরিয়ে নেবার কাজে ঐক্যবদ্ধ হউয়া একান্ত জরুরি হয়ে পরেছে।  পরে অনেক সময়য় পাওয়া যাবে তাত্তিক বিতর্কের, আদর্শভিত্তিক রাজনীতির।  এখন নয়! 
আমার অনেক সজনেরা/বন্ধুরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে ধিরে ধিরে, আমাকেও চাপ দেয়া হচ্ছে - কিন্তু আমি যেতে চাই না!  আর কিছু না পারি, এখানে থেকে চিৎকার চেঁচামেচি করে কান ঝালাপালা করে দেব!  হারামিপনার একটা সীমা থাকা উচিৎ! 

Wednesday, November 27, 2013

দুই দলীয় রাজনীতি

আমি তেমন কিছু জানিনা, শুধু আমার কিছু চিন্তা ভাবনা তুলে ধরলাম এখানে বর্তমান দুই দলীয় রাজনীতির উপর -

দুই দলিয় রাজনীতি যেভাবে কাজ করে -

প্রথম বেক্তিঃ আঃলিঃ না এলে দেশে জঙ্গিবাদ বেরে যাবে, দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে!
দ্বিতীয় বেক্তিঃ  কিন্তু বিএনপি না এলে এ দেশে ইসলাম ধ্বংস হয়ে যাবে।  আর আঃলিঃ তো সন্ত্রাস করে।
প্রথম বেক্তিঃ জানি আঃলিঃ অনেক বাজে কাজ করে, কিন্তু বিএনপি কে চাই না, তারা দেশে ইমাম শাফির নিয়ম চালু করবে, সাম্প্রদায়িকতা বেরে যাবে - এটা মানা যায় না! আর তাদের দুর্নীতির কথা সবাই
জানে।
দ্বিতীয় বেক্তিঃ বিএনপির দুর্নীতির কথা ঠিক, তারাও খারাপ - কিন্তু আঃলিঃ সরকারের সময় অনেক ইসলাম বিরোধী কাজ হয়, আধুনিকতার নামে অনেক নোংরামি হয়! তাছাড়া আঃলিঃ কম দুর্নীতি করে নাই!  আর এমন এক সময় আসবে যখন দেখা যাবে তারা হিজাব নিষিদ্ধ করে দিয়েছে!

দুই দলিয় রাজনীতি আমাদের কে দুটো দলের ভেতর একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করছে আমাদের মনের ভয়গুলোকে ব্যাবহার করে।  তৃতীয় কোন প্লাটফর্ম তারা তৈরি হতে দিচ্ছে না!  আমরা পরোক্ষভাবে
এদের অন্যায়গুলোকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি বিভিন্ন অজুহাতে।  আমাদের অনেক গুণীজনও এ ধরনের চিন্তা ভাবনার কারনে দলিয় বৃত্তের বাইরা আসতে পারছেন না।

"আমাদের আর কি করার আছে?  একজন না আসলে আরেকজন তো আসবেই!  তাই দুজনের ভেতর আমার মতের সাথে কিছুটা মিল আছে এমন একজন বেছে নেয়া ছাড়া উপায় নেই!  " - এধরণের চিন্তা
ভাবনা অধিকাংশ মানুষের।  আবার কিছু কিছু মানুষ ভাবেন - "তৃতীয় আর কে আছে!"  আমরা যত এ ধরনের ভাবনার ভেতর আবদ্ধ থাকব, আমাদের দুদলের জন্য তত মঙ্গল!

তাহলে আমাদের কি করা উচিৎ?  বাংলাদেশে হয়ত অনেক সুপ্ত নেতৃত্ব আছেন যারা জেগে উঠতে পারছেন না আমাদের এই চিন্তাধারার কারনে।  তারা ভাবছেন, "চেষ্টা করে আর কি হবে, ভোটের সময় তো মানুষ ভোট ঠিকই দেবে এই দুদলের একদল কে।"
কথা ঠিক!  তাহলে আমাদের, জনগনের, যা দায়িত্ব তা হচ্ছে নতুন নেতৃত্ব উঠে আসার পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়া।  এই পরিবেশ তৈরি করতে গেলে আমাদের জনগনের কাজ হবে বিবাদমান দুদলের প্রতি চরম
অনাস্থা প্রকাশ করা।  এই অনাস্থা প্রকাশিত হয়ে যাবে ভয়ে "না" ভোট উঠিয়ে দেয়া হয়েছে।  আমাদের এখন উচিৎ তাহলে নির্বাচন থেকে বিরত থাকা।  যখন অসংখ্য মানুষ নির্বাচন থেকে বিরত থাকবে, তখন
কারো সামর্থ্য হবে না এই সত্যকে লুকিয়ে রাখার।
তখন আমাদের অনেক সুপ্ত নেতৃত্ব ভরসা পাবেন, ভাববেন যে এবার একটা কিছু করা যায় - যে শুন্যস্থান তৈরি হয়েছে তা পূরণ করার চেষ্টা এবার করা যেতে পারে।  মানুষ তাদের সাথে পথ চলবে এই আশা তখন তাদের ভেতর তৈরি হবে।  এবং এই কাজে আমাদের বুদ্ধিজীবী শ্রেণী বিরাট ভুমিকা পালন করতে পারেন দলীয় রাজনীতির বাইরে এসে আর মানুষের ভালকে তাদের মন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করেন।

মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যাবার এই নতুন নেতৃত্ব বের করে আনার চেষ্টা আমাদের করতেই হবে।  আর নাহলে এই ধ্বংসাত্মক এই "দুই দলীয় বৃত্ত" থেকে আমরা  বের হতে পারব না,  সামাজিক ন্যায় বিচার
আমরা প্রথিস্থিত করতে পারব না,  বিচার বিভাগের স্বাধীনতার মাধ্যমে আইনের চোখে সবাইকে সমান করতে পারব না।  অর্থনৈতিক সাম্য প্রথিস্থা করতে পারব না।
আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য এমন দেশ রেখে যাবার চেষ্টা আমাদের করা উচিৎ যে দেশ থেকে পালিয়ে যাবার চিন্তা তাদের মাথায়ই আসবে না!  এটা আমাদের দায়িত্ব! 

Saturday, June 29, 2013

নিঝুম দুপুর

গা ছমছম করা কিছু নির্জন দুপুর আছে আমার স্মৃতিতে।  অনেক আগে আমার শৈশবে/কৈশোরে, খোলা জায়গা ছিল অনেক, প্রচুর গাছগাছালিও ছিল।  নিরিবিলি সে সময় সবাই দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমাত কিছুক্ষণ।  সবাই যখন ঘুমে ব্যস্ত, আমি একা মেতে উঠতাম খেলায়।

এমনি এক দুপুরে, খুব সম্ভবত  সিঁড়িতে বসে, গভীর মনোযোগ দিয়ে ফাঁদ পেতে চড়ুই ধরতে চেষ্টা করছিলাম, ভেঁজে খাব বলে।  চারদিকে সব সুনসান।  হঠাৎ ঘাড়ের লোমগুলো সব দাঁড়িয়ে গেল, মেরুদণ্ড বেয়ে মনে হল নেমে যাচ্ছে একটা ঠাণ্ডা সরীসৃপ! কেও একজন আমার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে।  ভয়ে জমে গেছি - ঘাড় ঘুরিয়ে তাকানোর দুঃসাহস হচ্ছে না আমার!  কতটা সময় চলে গিয়েছিল জানিনা!  শুধু জানি, একটু শক্তি ফিরে পেতেই ঝট করে ঘাড় ঘুরিয়েছিলাম, কিন্তু পেছনে কেও নেই!  তবু  কেন জানি মনে হচ্ছিল, কেও একজন ওত পেতে আছে আমাকে মারবে বলে।  একছুটে দৌড়ে ঘরের ভেতর - হৃৎপিণ্ড কত সময় নিয়েছিল স্বাভাবিক হতে, তা মনে নেই!

নির্জন এমন দুপুরের কথা এখন খুব মনে হয় এবং খুব আফসোস হয়!  অদ্ভুত শুনাবে, কিন্তু আফসোসটা আমার সন্তানদের জন্য! আমি কায়মনোবাক্যে তাদের জীবনে এমন ভয়ঙ্কর দুপুর প্রার্থনা করি!  কিন্তু এমন অভিজ্ঞতা তাদের হবে বলে মনে হয় না!  তাদের জীবনে নিঝুম দুপুর বলে কিছু নেই!  মানুষের ভিড়ে বিলিন হয়ে গেছে গাছপালা - চড়ুইরা সব মরে ভুত হয়ে গেছে অনেক আগে!   খোলা জায়গা আবার কি জিনিস ঢাকা শহরে!
আমার সন্তানরা ফাঁদ পেতে চড়ুই ধরার খেলা খেলতে পারবে না কখনো - কখনো সফল হইনি চড়ুই ধরায়, কিন্তু ধরার চেষ্টার যে আনন্দ তা বলে বুঝান যাবেনা!  আমার সন্তানরা কোনদিন এই আনন্দের সাথে পরিচিত হবে না!  তারা ছাদকে মনে করে খলার মাঠ!  আমাদের মত বৃষ্টিতে, কাদা পানিতে ফুটবল খেলার মজা তারা কখনো পাবেনা।
আমাদের ছোটবেলায় পাড়ার সব বারিঘরে ছিল আমাদের অবাধ যাতায়াত - খেলতে খেলতে যখন তৃষ্ণা পেত, সবচে কাছের বাড়ীটাতে ঢুকে বলতাম, "খালাম্মা, পানি দেন না একটু!"  আমার সন্তানরা দৌড় দিয়ে কখনো চলে যেতে পারবেনা অন্যের বাড়িতে - এখন অনেক ধরনের বাঁধা ব্বিপত্তি, অনেক ধরনের সব দেয়াল!
অনেক পরিবর্তিত হয়েছে আমাদের বেশবাস - কিন্তু এই পরিবর্তন আমি মেনে নিতে পারছিনা!  শুধুই কষ্ট হচ্ছে!

Monday, April 29, 2013

সোহেল রানা - আমাদের রাজনীতি এবং আমাদের উদাসীনতা।


টেলিভিশন দেখছি - ধ্বসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা কে গ্রেফতার করা হয়েছে!  পুলিশের মাঝখানে বিধ্বস্ত রানা দাড়িয়ে থাকতে পারছে না - মাঝে মাঝেই গা ছেড়ে দিয়ে পড়ে যাচ্ছে অবস্থা!   খারাপ ই লাগলো - হ্যাঁ, খারাপ ই লাগলো!  আমার কোন মানুষকেই বিধ্বস্ত দেখতে ভালো লাগেনা!  কেন একটা মানুষ নিজেকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে যে তার সত্ত্বার অবমাননা হয় - এই প্রশ্ন তখন আমাকে যন্ত্রণা দেয়!
কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি বিচার চাই না - আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে কঠিন শাস্তি দিতে হবে।  আর নাহলে এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে -  অন্যের জীবনের প্রতি ক্ষমতাশীলদের উদাসীনতা দূর হবে না!

তবে এখানে আরও কীছূ কথা থেকে যায় - যে নোংরা রাজনীতি সোহেল রানাদের জন্ম দেয়, তার ব্যাপারে আমরা কী করবো? যে নোংরা রাজনীতিবিদদের ছত্রছায়ায় রানারা অন্যদের জীবনকে তুচ্ছ ভাবতে শেখে - তাদের কী শাস্তি হবে?  আমার পরিষ্কার মনে আছে আমাদের প্রধান মন্ত্রীর কথা - শুরুর দিকে  কী ভাবে তিনি নিজের দলের লোককে বাঁচাবার জন্য রানা প্লাজার ঘটনা নিয়ে ভূল তথ্য দিয়েছিলেন মানুষকে!  আর আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কথা আর কী বলবো!  সাভারের জঙ সাহেব যিনি রানা কে ব্যবহার করে অনেক  মানুষের জমি দখল করে তাদের জীবন ধ্বংস করেছেন,  তিনি তো বহাল তবীয়তে আছেন!   রানারা ভূলে যায় যে যাদের ছত্রছায়ায় তারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলে, তারা ই তাদের কে নিমিষে বলী দিয়ে দিবে চামড়া বাঁচাবার জন্য।  সোহেল রানার জায়গা পূরণের জন্য অনেক মানুষ আছে - শূন্য স্থান পূরণে কোন সমস্যা হবেনা!

আরেকটা বিষয় হোলো - নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা বরাবর ই উদাসীন একটা জাতী।  এটা অস্বীকার করা হবে মিথ্যাচারের সামিল। আমি কোণো আধুনিক এপার্টমেন্ট এ আগুন লাগলে বের হবার ঊপায় দেখি না - সবখানে দরজা একটা!  আশ্চর্য!  আমাদের এপার্টমেন্ট এ একটাই দরজা - তার প্রায় বিপরীতে খোলা বারান্দা ছিল। এই বারান্দা আমার খুব প্রিয় ছিল।   এই খোলা বারান্দা এস এস এর গ্রিল দিয়ে বন্ধ করা হোলো চোরের ভয়ে।  বারবার আমি আর আমার বড় ভাই বলেছিলাম পুরো বন্ধ না করে অন্তত একটা ছোটো জানালার মতো রাখতে যা ঈমাড়জেণশী তে বের হবার সুযোগ রেখে দেবে কিন্তু একই সাথে নিরপত্তা দেবে।  কে শুনে কার কথা!
সর্বক্ষেত্রে নিরাপত্তার  প্রতি উদাসীনতার প্রতিফলন আমি দেখি প্রতিদিন।  আমরা কোন রাসায়নিক দ্রব্য যখন ব্যবহার করি, আমরা যখন বাড়ী তৈরি করি, আমরা যখন সেতু বানাই - সবকিছুতেই আমাদের এই উদাসীনতা প্রকটভাবে ধরা পরে।  হাতীরঝীল এর ব্রিজ এ দাঁড়াতে আমার ভয় লাগে - রেলিঙ গুলো সব হেলানো বাইরের দিকে এবং তাদের  নীচের দিকে এতো বড় ফাঁক যে বড় মানুষ ই গলে পড়ে যাবে, বাচ্চাদের কথা বাদ ই দিলাম!  আমরা যখন রাস্তায় চলাফেরা করি - তখনো, অন্যের জীবনের কথা বাদ ই দিলাম, নিজের জীবনের নিরপত্যার দিকে আমাদের দৃষ্টি থাকে কম।  সোহেল রানা তো  এই জাতীর ই একজন!  তার ই বা নিরাপত্তার প্রতি এতোটা নজর থাকবে কেন?  তার উপর উনি আবার ক্ষমতাসীনদের আদরের বস্তু ছিলেন!
আমাদের জাতিগত ভাবে পরিবর্তিত হতে হবে।  আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন হতে হবে!  একই সাথে  কঠোর ভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে যাতে নিরাপত্তার প্রতি উদাসীনতা, অন্যের জীবনের প্রতি মমত্বহীনতা দূর হয়!  ছাঁদ থেকে ইট পড়ে তরুণ মারা যায়, কিন্তু কারো বিচার হয় না;  ক্রেন ভেঙে শ্রমিক মারা গেলে কারো জবাব দিতে হয় না!

সময়টা খুব কষ্টের  সাধারণ মানুষদের জন্য!  একটী একটি মৃতদেহ বের করা হয়, খসে যায় আমাদের সত্ত্বার কীছূ অংশ!  কিন্তু এরই মাঝে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে মাথা ঊচূ করে - আমরা আবেগের বসে সোহেল রানার সঠিক বিচার না চেয়ে তাকে দ্রুত ঝুলিয়ে দিতে বলবো না ফাঁসীর দড়ীতে!  আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে - পৃথিবীর জঘন্যতম খূণী কেও সুযোগ দিতে হবে আত্মপক্ষ সমর্থনের এবং আইনজীবীর সাহায্যে নিজেকে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করানোর। আর নাহলে আমরা কখনো সভ্য হতে পারবো না! আর আমাদের আরও নজর রাখতে হবে যেন কোন মহল এই বিচারে বাঁধা সৃষ্টি করতে না পারে অপরাধীদের বাঁচাবার জন্য - তাহলে কাঁটা গায়ে নুনের ছিটার মতো আমরা অপমান করবো স্বজন হারানোদের, অপমান করবো আমাদের মৃত ভাই বোনদের, আবারো পরাজিত হবো নোংরা রাজনীতির কাছে!